জানুয়ারিতে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর

বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা লজিস্টিক, ইলেকট্রনিকস, আইটি অটোমোবাইল খাতে

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (ইপিএ) খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে।

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (ইপিএ) খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী জানুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে এ চুক্তি স্বাক্ষর হবে। এ অংশীদারত্বের আওতায় জাপানের জন্য ৯৭টি উপখাত উন্মুক্ত করতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ। অন্যদিকে জাপান ১২০টি উপখাতে চারটি মোডে বাংলাদেশের জন্য সেবা উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ চুক্তির ফলে বাংলাদেশের লজিস্টিক, ইলেকট্রনিকস, আইটি ও অটোমোবাইল খাতে বড় বিনিয়োগ আসার সম্ভাবনা দেখছে সরকার।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে গতকাল বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি নেগোসিয়েশন বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এ সময় বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন ও বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দুই দেশের মধ্যে ইপিএ সম্পাদিত হলে প্রথম দিন থেকেই ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্যে জাপানের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাওয়া যাবে। অন্যদিকে জাপান ১ হাজার ৩৯টি পণ্যে বাংলাদেশের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘একটি ইনটেনসিভ নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে জাপানের সঙ্গে ইপিএর খসড়া চূড়ান্ত করেছি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আজ আমার ফোনে কথা হয়েছে। আগামী মাসে ইপিএ স্বাক্ষর হবে।’

বিশ্বের কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের এটি প্রথম অর্থনৈতিক চুক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এর ফলে উভয় দেশের বিনিয়োগ আকর্ষিত হবে। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়বে।’

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান জানান, ২০২৪ সালের শেষের দিকে জাপানের সঙ্গে ইপিএ স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। আট দফা বৈঠক শেষে এখন চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, ‘জাপানের সঙ্গে আমাদের দীর্ঘ সুসম্পর্ক থাকলেও এ দেশে তাদের বিনিয়োগ মাত্র ৫০০ মিলিয়ন ডলার। এটা বিশ্বের অন্য দেশে জাপানের বিনিয়োগের তুলনায় অল্প। আগে যখন জাপানের কাছে অধিক বিনিয়োগ চেয়েছি, তখন এ ধরনের (অর্থনৈতিক চুক্তি) কোনো স্ট্রাকচার ছিল না বলে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হতো।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশকে সবসময় ভিয়েতনামের সঙ্গে তুলনা করা হয়। কিন্তু ভিয়েতনামের ৩০ দেশের সঙ্গে অ্যাগ্রিমেন্ট আছে। আমরা মাত্র শুরু করছি। তবে যে যাত্রা শুরু হলো, আগামীতে আরো অনেক অর্থনৈতিক চুক্তি করতে পারব।’

চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন বলেন, ‘আগে এ দেশে জাপানের বিনিয়োগ দু-একটা ক্ষেত্রে ছিল, এখন অনেক খাতে সেটা বিস্তৃত হবে। বিশেষ করে লজিস্টিক, ইলেকট্রনিকস, আইটি ও অটোমোবাইল খাতে বড় বিনিয়োগ আসবে। ফলে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও প্রযুক্তি স্থানান্তর আরো ত্বরান্বিত হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইপিএ দেশের জন্য ব্যাপক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সুফল বয়ে আনবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ফলে বাংলাদেশে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিযোগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।

আরও